আরও এক বিপর্যয়ের মুখে গাজার ফিলিস্তিনিরা, হানা দিচ্ছে ভয়ংকর ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ , ০১:২০ পিএম


আরও এক বিপর্যয়ের মুখে গাজার ফিলিস্তিনিরা, হানা দিচ্ছে ভয়ংকর ঝড়
ফাইল ছবি

আরও এক কঠিন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছেন ইসরায়েলের নজিরবিহীন আগ্রাসনে পর্যুদস্ত গাজার ফিলিস্তিনিরা। ভূখণ্ডটিতে হানা দিতে যাচ্ছে ভয়ংকর ঝড়। এর ফলে বড় ধরনের বন্যা ও মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়েছেন দক্ষিণ গাজার ৯ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকা অঞ্চলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার ৯ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ তীব্র ঝড়ের কারণে ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিতে আছে বলে বৃহস্পতিবার সতর্ক করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলের দুই বছরব্যাপী আগ্রাসনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া আর মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত এই অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

খান ইউনিস পৌরসভার মুখপাত্র সাঈদ লাক্কান আনাদোলুকে বলেছেন, আসন্ন ঝড়টি খুবই বিপজ্জনক এবং উপকূলজুড়ে হাজারো তাঁবু প্লাবিত হতে পারে, শহরের ভেতরের বড় এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি জানান, নষ্ট হয়ে যাওয়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পুকুরগুলো স্থানীয়দের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ফিলিস্তিনি আবহাওয়া অধিদপ্তরও শুক্রবার ও শনিবার উপত্যকা ও নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করেছে।

লাক্কান বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ অভূতপূর্ব ও বিপর্যয়কর” পরিস্থিতির মুখোমুখি। ৯ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছে, আর সড়ক, পানি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অন্তত ৮৫ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ সামলাতেও অক্ষম শহরটি।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষায়, ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মিটার সড়ক, ৩ লাখ মিটার পানি সরবরাহ লাইন এবং ১ লাখ ২০ হাজার মিটার ড্রেনেজ লাইন ধ্বংস হয়েছে। শহর কার্যত অচল হয়ে গেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

লাক্কান আরও জানান, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ মাত্র ১৬ হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছে— যা দিয়ে তিন দিনের বেশি কাজ চালানো সম্ভব নয়। অপ্রতুল সরঞ্জাম নিয়ে তারা বাঁধ তৈরির চেষ্টা করছেন এবং উপত্যকার পানি প্রবাহ ঘুরিয়ে দিয়ে তাঁবু ও নিচু এলাকা রক্ষার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল প্রতিদিনই চুক্তি ভঙ্গ করছে, এতে শত শত ফিলিস্তিনি হতাহত হচ্ছেন এবং খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ ঢুকতেও বাধা তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, আসন্ন ঝড়ের সময় শহরকে ডুবন্ত অবস্থা থেকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে মোবাইল পাম্প ও অতিরিক্ত সরঞ্জাম প্রয়োজন।

খান ইউনিসের পরিস্থিতি ‘চরম হতাশাজনক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপ সরানো ও জরুরি সেবা পুনর্গঠনে এখনই আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। গাজার উপকূলে বন্যা ও মৃত্যুঝুঁকিতে থাকা ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষকে রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধ চলাকালে গাজার ২ লাখ ৮২ হাজারের বেশি বাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে হাজারো পরিবার শীতের আগমুহূর্তে তাঁবুতে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

এছাড়া, গত দুই বছরের শীতে ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে হাজারো তাঁবু ছিঁড়ে গেছে বা প্লাবিত হয়েছে। কাদায় ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে মানুষের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র। গত সেপ্টেম্বরের শেষে গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছিল, গোটা এলাকার ৯৩ শতাংশ তাঁবু ভেঙে পড়েছে এবং সেগুলো আর থাকার উপযোগী অবস্থায় নেই।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission